Constitution

বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি
Library Association of Bangladesh (LAB)

গঠনতন্ত্র

[১৯৬১ সনের ৪৬ নম্বর অধ্যাদেশ দ্বারা নিবন্ধিত/নি: নং ঢ. ০১৭৭৮।
২২ মার্চ ২০১৪ তারিখে অনুষ্ঠিত একাদশ সাধারণ সভায় সর্বশেষ সংশোধিত]

বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি
নীলক্ষেত হাইস্কুল ভবন (৩য় তলা)
নীলক্ষেত, ঢাকা-১০০০।
www.lab.org.bd
E-mail: libraryassociation.bd@gmail.com


গঠনতন্ত্র

১.   নাম:

বাংলা- বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি
ইংরেজি- Library Association of Bangladesh (LAB)

২. কার্যালয়: সমিতির প্রধান কার্যালয় হবে ঢাকা।

৩.  ক্যালেন্ডার বছর: সমিতির অফিসিয়াল বছর হবে জানুয়ারি-ডিসেম্বর।

৪.  প্রিলিমিনারিজ/প্রাথমিক শর্তসমূহ:

ক. এ্যাক্ট সংক্রান্ত সকল নিয়মাবলী বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি-এর জন্য প্রযোজ্য হবে।
খ. গঠনতন্ত্রে যতক্ষণ না কিছু পরিবর্তন করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় ততক্ষণ পর্যন্ত এটা গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচ্য হবে।
গ. সমিতি বলতে বোঝাবে বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি বা লাইব্রেরি এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সকল কার্যাদি, যার উপর এসোসিয়েশনের গঠনতন্ত্র প্রণীত হয়েছে।
ঘ. অধ্যাদেশ বলতে (Voluntary Social Welfare Agencies (Regulation Control) ord. 1961 (46 of 1961)) ১৯৬১ সালের স্বেচ্ছাসেবী সমাজ কল্যাণ সংস্থাসমূহের রেজিস্ট্রেশন ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ১৯৬১ সালের ৪৬ নং অধ্যাদেশ বুঝাবে।
ঙ. নিয়মকানুন বলতে গঠনতন্ত্রের ধারা উপধারাকে বুঝাবে এবং এক্ষেত্রে সামাজিক  উন্নয়ন, পরিবর্তন কিংবা সমাজের বিভিন্ন উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করবে।
চ. গ্রন্থাগার এবং তথ্যবিজ্ঞান বলতে গ্রন্থাগার সম্পর্কিত কার্যাবলী, তথ্যায়ন, সেবাকার্যক্রমসহ তথ্যবিজ্ঞান, তথ্য প্রযুক্তি ও এর ব্যবহার এবং আর্কাইভস সংক্রান্ত কাজ বুঝাবে।

৫.  সমিতির অবস্থান/মান

৫.১ গ্রন্থাগার এবং তথ্যবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি দেশের জাতীয় সমিতি হিসেবে নিয়োজিত থাকবে।
৫.২ সমিতি একটি বেসরকারি, অরাজনৈতিক এবং অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে।
৫.৩ সমিতির কার্যাবলী গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয়ের সকল ধরনের শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং গবেষণার ফলাফল সংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত থাকবে।
৫.৪ সমিতি অবশ্যই দেশের গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আইনগত ভিত্তি হিসাবে কাজ করবে।
৫.৫ সমিতি পেশাজীবী উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করবে।
৫.৬ গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান শিক্ষা ও ট্রেনিং-এর ক্ষেত্রে এবং দেশের গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান পেশাজীবীদের জন্য সমিতি সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে।
৫:৬.১ ধারার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সমিতি একটি ইনস্টিটিউট পরিচালনা করবে। ইনস্টিটিউট অব লাইব্রেরি এ্যন্ড ইনফরমেশন সাইন্স (ইলিস) সমিতি কর্তৃক পরিচালিত একটি শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান।
৫.৭ তথ্য বিতরণ, পরামর্শ ও অন্যান্য কাজের ক্ষেত্রেও সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে।

৬.  সমিতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

৬.১ গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান সংক্রান্ত সেবার সকল ধরনের উন্নয়ন ও অগ্রগতি সাধন।
৬.২ গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয়ে সেবা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কাজের অনুমোদন ও উন্নয়ন সাধন।
৬.৩ অভ্যন্তরীণ ও বহির্বিশ্বের মানুষের মাঝে পেশাগত কাজের বিস্তার ঘটানো।  পারস্পরিক সহযোগিতা প্রদান করা।
৬.৪ দেশের ভিতর ও বাইরে অবস্থিত একই ধরনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে কর্মরত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমিতিগুলোর সাথে একযোগে কাজ করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা প্রদান করা।
৬.৫ পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কর্মদক্ষতা, পরিবেশ এবং কাজের অবস্থা ও নিজস্ব  অবস্থানের উন্নয়ন ঘটানো এবং দেশ ও বহির্বিশ্বের মানুষের নিকট তাদের পরিচিত  করে তোলা।
৬.৬ পেশাগত মান উন্নয়নের জন্য গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণা, শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের মান মনিটর ও মূল্যায়ন করা এবং বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা।

৭. সমিতির মনোগ্রাম

৭.১ অর্ধবৃত্তের মাঝে একটি খোলা গ্রন্থের ছবি থাকবে।
৭.২ বাম পাশে ‘পড়’ ও ডান পাশে ‘Read’  শব্দ লেখা থাকবে।
৭.৩ মনোগ্রামের উপরে ও নীচে সমিতির নাম, প্রতিষ্ঠা বছর উল্লেখ থাকবে।

৮. সমিতির কাজ

৮.১ সমিতি পরিচালনার নিয়মনীতি নির্ধারণ করা।
৮.২ সরকার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা।
৮.৩ গ্রন্থগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয় সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম মনিটর ও তত্ত¡াবধায়ন করা।
৮.৪ পেশাগত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম পরিচালনা এবং সার্টিফিকেট/ ডিপ্লোমা/ডিগ্রি প্রদান করা।
৮.৫ পেশাগত দক্ষতা, মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ব্যবস্থা করা।
৮.৬ গবেষণার ব্যবস্থা এবং গবেষণা কাজের রিপোর্ট, জার্নাল ও গ্রন্থ প্রকাশ করা।
৮.৭ পেশাজীবীদের উন্নয়নের লক্ষ্যে ওয়ার্কশপ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সভা, সেমিনার ইত্যাদির আয়োজন করা।
৮.৮ সরকার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অনুরোধে উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা।
৮.৯ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সমিতির সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা।
৮.১০ গ্রন্থাগার ব্যবহারকে জনপ্রিয় করা এবং মানুষের মাঝে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।
৮.১১ পেশাগত ও জাতীয় উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখার জন্য বিশিষ্ট ব্যক্তি/ প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা/ পুরস্কার প্রদান করা।
৮.১২ দেশে বিদ্যমান গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মান মনিটর ও মূল্যায়ন করা। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা এবং নীতির উন্নয়ন এবং বাস্তবায়নে সাহায্য করা।

৯. সমিতির একটি সাধারণ পরিষদ ও একটি কাউন্সিল থাকবে।

১০. [* ] সাধারণ পরিষদ-এর সদস্য পদ

সরকার স্বীকৃত যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় হতে গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞানে ডিপ্লোমা, স্নাতক (সম্মান), এম.এ বা পি.এইচ.ডি ডিগ্রিধারী এবং গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয়সহ স্নাতক (পাস) কোর্স ডিগ্রিধারী যে কোন আগ্রহী ব্যক্তি শর্ত সাপেক্ষে কাউন্সিলের অনুমোদনক্রমে সমিতির [এবং সাধারণ পরিষদের] সদস্য হতে পারবেন। গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞানে সার্টিফিকেট কোর্স পাশ যাঁরা ইতিমধ্যে তিন বৎসর লাইব্রেরিতে চাকুরি করেছেন তাঁরাও আজীবন সদস্য হতে পারবেন। প্রাতিষ্ঠানিক সদস্যদের একজন প্রতিনিধি সাধারণ পরিষদের সদস্য হতে পারবেন। সদস্যকে সমিতির লক্ষ্য ও  উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে কাজ করতে হবে। সমিতির সদস্যবৃন্দ সমিতির নিয়ম বহির্ভূত কোন ধরণের কাজে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।

১০.১ পৃষ্ঠপোষক সদস্য
সমিতির সাধারণ পরিষদের অনুমোদনক্রমে যে কোন পদস্থ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ সমিতির পৃষ্ঠপোষক হতে পারবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠনের  ভোটাধিকার থাকবে না।

১০.২ দাতা সদস্য
সাধারণ পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এককালীন ৫০০০০.০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা সমিতি বরাবরে দান করে সমিতির দাতা সদস্য হতে পারবেন।

১০.৩ ফেলো
গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞানে এমএ ডিগ্রিধারী কোন ব্যক্তি যদি কমপক্ষে ১০ বছরের কর্মদক্ষতায় গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এবং গবেষণামূলক জার্নালে কমপক্ষে ৫টি প্রবন্ধ প্রকাশ করে থাকেন তবে সমিতি তাকে ফেলোশিপ প্রদান করবে।

১০.৪ [* ] আজীবন সদস্য
সরকার স্বীকৃত যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় হতে গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞানে ডিপ্লোমা, স্নাতক (সম্মান), এম.এ বা পি.এইচ.ডি ডিগ্রিধারী, গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয়সহ স্নাতক (পাস) কোর্স ডিগ্রিধারী এবং গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞানে সার্টিফিকেট কোর্স পাশ যাঁরা ইতিমধ্যে তিন বৎসর লাইব্রেরিতে চাকুরি করেছেন তাঁরা টাঃ ২০০০.০০ (দুই হাজার টাকা এককালীন চাঁদা পরিশোধ করে শর্ত সাপেক্ষে কাউন্সিলের অনুমোদনক্রমে সমিতির আজীবন সদস্য পদ গ্রহণ করতে পারবেন।

১০.৫ প্রাতিষ্ঠানিক সদস্য
গ্রন্থাগার আছে এমন ধরনের প্রতিষ্ঠান যা গ্রন্থাগার উন্নয়নের কাজে অবদান রাখে, বাংলাদেশের যে কোন নাগরিক যার গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান বিষয়ে পোস্ট-গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা/এম এ ডিগ্রি আছে, তিনি বা এই জাতীয় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক মনোনিত ব্যক্তি ২০,০০০,০০ (বিশ হাজার) টাকা পরিশোধ করে প্রাতিষ্ঠানিক সদস্য পদ গ্রহণ করতে পারবেন। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্রীয় সমিতির সংবিধানের আলোকে সংবিধান প্রণয়ন করে তা ল্যাব কাউন্সিলের অনুমোদনের জন্য পেশ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ল্যাব কাউন্সিলকে জ্ঞাত না করে কোন  কার্যক্রম গ্রহণ করতে  পারবে না। তবে ভোটাধিকার ব্যতীত কাউন্সিলের অনুমোদনক্রমে ল্যাবের সকল কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।

১০.৬ এসোসিয়েট সদস্য
বাংলাদেশ বা বহির্বিশ্বের যে কোন স্থানে অবস্থানরত যে কোন পদস্থ ব্যক্তি, যিনি ইতোমধ্যেই সমিতির জন্য উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অনুরূপ ভূমিকা পালনের ইচ্ছা পোষণ করেন এবং যার এম এ  ডিগ্রিসহ ২বছর কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাঁকে এসোসিয়েট সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এসোসিয়েট সদস্যকে বার্ষিক ২০০ টাকা চাঁদা জমা দিতে হবে।

১০.৭ [* ] সাধারণ সদস্য
বাংলাদেশের যে কোন নাগরিক তিনি যদি সরকার স্বীকৃত যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় হতে গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞানে ডিপ্লোমা, স্নাতক (সম্মান), এম.এ বা পি.এইচ.ডি ডিগ্রিধারী, গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয়সহ স্নাতক (পাস) কোর্স ডিগ্রিধারী এবং গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞানে সার্টিফিকেট কোর্স পাশ যাঁরা ইতিমধ্যে তিন বছর লাইব্রেরিতে চাকরি করেছেন তাঁরা টা ৫০০.০০ (পাঁচশত টাকা চাঁদা পরিশোধ করে শর্ত সাপেক্ষে কাউন্সিলের অনুমোদনক্রমে সমিতির সাধারণ সদস্য পদ গ্রহণ করতে পারবেন। তিনি শুধু ভোটাধিকারের  সুযোগ পাবেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করতে পারবেন না।

সাধারণত জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে বার্ষিক ৫০০ টাকা চাঁদা জমা দিতে হবে। ঐ বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বার্ষিক চাঁদা জমা দিতে ব্যর্থ হলে কোন নির্দেশনা ছাড়াই তার সদস্যপদ বাতিল বলে গণ্য হবে। নিয়ম অনুযায়ী বকেয়া চাঁদা পরিশোধ করে পুনরায় সদস্য হওয়া যাবে। তবে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চাঁদার টাকা জমা না দিলে তিনি ভোটাধিকার হারাবেন। ৩মাস পূর্তি সাপেক্ষে ভোটাধিকার প্রদান করা হবে।

১১. সদস্যদের অধিকার ও সুবিধা

১১.১ সাধারণ সভায় অংশগ্রহণ ও ভোট প্রদান।
১১.২ যে কোন পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতায় অংশগ্রহণ।
১১.৩ সমিতির সাধারণ সদস্য পদের জন্য প্রস্তাবনা।
১১.৪ কাউন্সিলের অনুমোদনক্রমে কম দামে সমিতির প্রকাশনাসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা গ্রহণ।
১১.৫ সেমিনার সিম্পোজিয়ামসহ সকল জাতীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ।

১২. সাধারণ পরিষদের ক্ষমতা ও কাজ

১২.১ সমিতির কাউন্সিল নির্বাচন করা।
১২.২ সমিতির নিয়মনীতি প্রণয়ন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কার্যক্রম পরিচালনা ইত্যাদির ক্ষেত্রে সমিতির বিধিমোতাবেক ক্ষমতা প্রয়োগ করা।
১২.৩ বিশেষ অবস্থায় কাউন্সিলের নিয়ম পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করা।
১২.৪ সাধারণ পরিষদের সদস্যবৃন্দ যদি মনে করেন কার্যকরী কাউন্সিল যথাযথভাবে কার্যক্রম পরিচালনায় অক্ষম, সেরকম বিশেষ পরিস্থিতিতে কাউন্সিল বাতিল ঘোষণা করা।
১২.৫ কাউন্সিলের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত যে কোন ধারা বা উপধারা সংযোজন বা বাতিল করা।

১৩. পরিচালনা এবং অফিস কার্যাদি: পরিচালক ও পৃষ্ঠপোষকবৃন্দ সমিতির কর্তৃপক্ষ বা  কাউন্সিল কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে।

১৩.১ কাউন্সিলের যে কেউ মারা গেলে বা পদত্যাগ করলে কিংবা বিশেষ পরিস্থিতিতে পদ শূন্য হলে কাউন্সিল কর্তৃক মনোনীত কোন কাউন্সিলর পরবর্তী নির্বাচনের পূর্বপর্যন্ত অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
১৩.২ কাউন্সিল সমিতির বিভিন্ন কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য বিভিন্ন কমিটির উপর দায়িত্ব দিতে পারবে।

১৪. [* ] কাউন্সিল-এর গঠন

কাউন্সিলের সময়সীমা ৩ বছর। জানুয়ারি হতে বছর শুরু হবে। গঠনতন্ত্রের ভিত্তিতে সমিতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে কাউন্সিল সদস্যদের সমন্বয়ে ক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করবেন। সাধারণ পরিষদের সদস্যদের ভোটে  নিম্নোক্ত রূপে কাউন্সিল গঠিত হবে।

১৪.১সভাপতি ১ জন
১৪.২সহ-সভাপতি৩ জন
১৪.৩মহাসচিব১ জন
১৪.৪কোষাধ্যক্ষ১ জন
১৪.৫যুগ্ম-মহাসচিব১ জন
১৪.৬সাংগঠনিক সম্পাদক ১ জন
১৪.৭গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক ১ জন
১৪.৮মহিলা বিষয়ক সম্পাদক১ জন
১৪.৯কাউন্সিলর (কেন্দ্রীয়)৫ জন
১৪.১০কাউন্সিলর (বিভাগীয়)৭ জন

(ভবিষ্যতে কোন বিভাগ সৃস্টি হলে ঐ বিভাগের জন্য কাউন্সিলর (বিভাগীয়) একটি পদ সৃষ্টি হবে।)

১৫. কাউন্সিল-এর ক্ষমতা এবং দায়িত্ব

১৫.১ প্রোগ্রাম ঠিক করা, বিভিন্ন প্রজেক্ট হাতে নেয়া এবং সাধারণ পরিষদের গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা।
১৫.২ পরবর্তী নির্বাচনের জন্য সাধারণ পরিষদের সদস্যদের তালিকা তৈরি এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম গ্রহণ করা।
১৫.৩ সমিতির সংবিধান অনুযায়ী আইন প্রণয়ন এবং সাধারণ পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে বাস্তবায়ন করা।
১৫.৪ ফান্ডের ব্যবস্থা করা, সেসব সংরক্ষণ, অডিট করানো, সদস্যদের সামনে অডিট ও একাউন্টের রিপোর্ট প্রকাশ করা ইত্যাদি।
১৫.৫ প্রয়োজন অনুযায়ী সাধারণ পরিষদ এবং কাউন্সিলের বিভিন্ন সেশনের আয়োজন করা।
১৫.৬ প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী কাউন্সিলের জন্য নির্বাচনের আয়োজন এবং বিভিন্ন অপশনের/পছন্দের মাধ্যমে কাউন্সিলের শূন্যপদ পূরণ করা।
১৫.৭ সমিতির কাজের সুবিধার্থে বিভিন্ন কমিটি এবং উপ-কমিটি গঠন করা।
১৫.৮ গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয়ক সমিতিকে পথ-প্রদর্শন এবং ঢাকার বাইরে ও ভিতরে গ্রন্থাগার সমিতি প্রতিষ্ঠা করার বিষয়ে উৎসাহিত করা এবং সমিতির বিরুদ্ধে কোন বিষয়কে নিরুৎসাহিত করা ।
১৫.৯ সমিতির বৈধতা এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে সমিতিকে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক গ্রন্থাগার সমিতি বা প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে সংশ্লিষ্টতা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা।
১৫.১০ ইনস্টিটিউট অব লাইব্রেরি এ্যন্ড ইনফরমেশন সাইন্স (ইলিস) পরিচালনা এবং গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক প্রোগ্রাম পরিচালনা করা।
১৫.১১ গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান সম্বন্ধীয় নিউজলেটার, জার্নাল, গ্রন্থ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রকাশনা নিয়মিতভাবে প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৫.১২ সমিতির সাধারণ সভার আয়োজন করা । তাছাড়াও সেমিনার, কনফারেন্স, বিভিন্ন আলোচনা সভা, ইত্যাদি পেশাগত পর্যায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা।
১৫.১৩ সম্পদ এবং অন্যান্য জিনিসের সংযোজনের ক্ষেত্রে অর্থ প্রদান, পরিচালনা   কিংবা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। সমিতির পক্ষে প্রয়োজনীয় এবং উপযুক্ত  আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
১৫.১৪ [* ] কাউন্সিলের সকল সদস্য এবং অফিস কর্মচারীবৃন্দের সকল ধরণের দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্ধারণ করা।
১৫.১৫ সাধারণ পরিষদের সদস্যদের যে কোন ধরনের অনৈতিক ও সমিতির স্বার্থের পরিপন্থী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। নির্বাচিত কাউন্সিলারদের মধ্যে যদি কেউ সমিতির স্বার্থের পরিপন্থী কোন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে তবে সেক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে ঐ কাউন্সিলরের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
১৫.১৬ সমিতির অডিট ও একাউন্ট নিরীক্ষা করার জন্য সমিতির সদস্যদের বাইরে থেকে কিছু উপযুক্ত লোক বা স্বীকৃত কোন প্রতিষ্ঠানকে অডিটর হিসেবে নিয়োগ দান করা।
১৫.১৭ সমিতির লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

১৬. সমিতির কর্মকর্তাদের ক্ষমতা এবং দায়িত্ব

১৬.১ সভাপতি: সমিতির প্রধান নির্বাহী হিসাবে সভাপতি কাজ করবেন।
সভাপতির কর্তব্য এবং দায়িত্বসমূহ হলোঃ-
ক. গঠনতন্ত্রে উল্লিখিত নিয়ম অনুযায়ী সমিতি এবং কাউন্সিল পরিচালনা করা।
খ. সমিতির সাধারণ সভা এবং কাউন্সিল সভাসহ সকল সভায় সভাপতিত্ব করা।
গ. সমিতির পক্ষ হয়ে প্রয়োজনীয় মতামত প্রদান করা।
ঘ. ১২ধারা অনুযায়ী কাউন্সিল কর্তৃক তৈরিকৃত/বিধিবিধান বাস্তবায়ন করার জন্য ঘোষণা প্রদান ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
ঙ. সমিতির উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য সমিতির পক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

১৬.২ সহ-সভাপতি
ক. তিনজন সহ-সভাপতি প্রাপ্ত ভোটের ঘরিষ্ঠতা অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার অধিকারী থাকবেন।
খ. সহ-সভাপতি কাউন্সিল সভায় অংশ গ্রহণ ও সভাপতির অনুপস্থিতিতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
গ. সমিতির স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

১৬.৩ মহাসচিব
মহাসচিব কাউন্সিলের সিদ্ধান্তক্রমে প্রধান নির্বাহী হয়ে কাজ করবেন। মহাসচিবের দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ হলো:-
ক. সমিতি এবং কাউন্সিলের মধ্যকার সকল ধরনের যোগাযোগ রক্ষা এবং সমিতির সকল দলিল দস্তাবেজ দেখাশুনা ও সংরক্ষণ করা।
খ. সমিতির নিয়মিত কাউন্সিল ও অন্যান্য সভাসমূহের আয়োজন করা এবং সভার কার্যবিবরণী ৭ দিনের মধ্যে প্রণয়ন করে কাউন্সিল সদস্যদের নিকট পেশ করা।
গ. কাউন্সিল সভায় কার্যবিবরণী সভায় পাঠ করা।
ঘ. সদস্যবৃন্দের তালিকা তৈরি এবং তা নিয়মিতভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা।
ঙ. নিয়মিত অফিস কার্যাদি পরিচালনা এবং সমিতির সকল ধরনের কার্যাদি, যোগাযোগের রেকর্ডসমূহ সংরক্ষণ করা।
চ. সমিতির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাজের উপর লক্ষ্য রাখা এবং তদারকি করা।
ছ. সভাপতির সাথে আলোচনা সাপেক্ষে এবং সভাপতির অনুমোদনক্রমে সমিতির  সাধারণ সভা ও কাউন্সিলের সভাসমূহের আয়োজনের জন্য এজেন্ডা তৈরি করা।
জ. সমিতির কাউন্সিল কর্তৃক গঠিত বোর্ড অব লাইব্রেরি এডুকেশনের সভাসহ বিভিন্ন ধরনের কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সহযোগিতা করা। এ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা ও অর্পিত কাজগুলো পরিচালনা করা।
ঝ. সমিতির বার্ষিক রিপোর্ট তৈরি, অডিট ও একাউন্টের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি, প্রকাশ ও প্রচার করা এবং অডিটকৃত হিসাব বিবরণী বার্ষিক সাধারণ সভায় বিতরণ করা।
ঞ. [* ] কাউন্সিলের অনুমোদন ছাড়া জরুরী কোন প্রয়োজনে মহাসচিব ১০০০০ (দশ হাজার) টাকা পর্যন্ত খরচ করতে পারবেন। কিন্তু পরবর্তী কাউন্সিল সভায় উক্ত খরচের হিসাব অনুমোদনের জন্য পেশ করতে হবে।
ট. কাউন্সিলের অনুমোদনক্রমে অতিরিক্ত যে কোন পরিমাণ টাকা খরচ করতে পারবেন। তবে খরচের হিসাব পরবর্তী সাধারণ পরিষদের সভায় অনুমোদনের জন্য পেশ করতে হবে।

১৬.৪      কোষাধ্যক্ষ
কোষাধক্ষ্যের দায়িত্ব এবং কর্তব্যসমূহ –
ক. সমিতির ফান্ডের ইন-চার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এবং সমিতির একাউন্ট দেখাশুনা করা।
খ. সমিতির প্রকাশনাসমূহ বিক্রয়ের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা।
গ. [* ] কাউন্সিলের অনুমোদন ছাড়া যাতে ১০,০০০.০০ (দশ হাজার) টাকার বেশি খরচ না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা।
ঘ. রশিদবই রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং যথাসময়ে তা মহাসচিব বরাবরে উপস্থাপন এবং ভাউচারের ভিত্তিতে বিভিন্ন খরচ পরিচালনা করা।
ঙ. ছয় মাসের মধ্যে কাউন্সিলের নিকট নিয়মিত ফান্ডের স্টেটমেন্ট প্রদান এবং বছর শেষে একটি অডিট রিপোর্ট কাউন্সিলে পেশ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
চ. [* ] কোষ্যধ্যক্ষ সর্বোচ্চ ৫,০০০.০০ (পাঁচ হাজার) টাকা নগদ রাখতে পারবেন।
ছ. সমিতির স্বার্থে গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
জ. মহাসচিবের অনুমোদনক্রমে সকল বিল ভাউচার পরিশোধ করা।
ঝ. মহাসচিব ও কোষাধ্যক্ষের দাপ্তরিক কাজে সহায়তার জন্য একজন কর্মী নিয়োগ দেয়া যাবে।

১৬.৫      যুগ্ম-মহাসচিব
যুগ্ম-মহাসচিব. এর দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ-
ক. মহাসচিবের দায়িত্ব পালনে সকল প্রকার সহায়তা করা।
খ. মহাসচিব-এর অনুপস্থিতিতে মহাসচিবের কার্যাদি সম্পাদন করা।
গ. কাউন্সিল কর্তৃক গঠিত বিভিন্ন বিশেষ কমিটির সভা আয়োজন এবং তাদের কার্যাদি দেখাশুনা করা।
ঘ. মহাসচিব বা কাউন্সিল কর্তৃক প্রদত্ত ও আরোপিত অন্য যে কোন কাজ সম্পাদন করা।
ঙ. সমিতির স্বার্থে অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদন করা।

১৬.৬ সাংগঠনিক সম্পাদক
সাংগঠনিক সম্পাদক-এর দায়িত্ব এবং কর্তব্যসমূহ-
ক. পেশাজীবীদের মধ্য হতে সদস্য সংগ্রহ করা।
খ. সদস্য ফি যথাসময়ে প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট সদস্যের বরাবরে তাগিদপত্র প্রদান এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে নিয়মিতভাবে যোগাযোগ রক্ষা করা।
গ. সদস্যদের তালিকা আপডেট রাখা।
ঘ. সামাজিক কার্যক্রমের আওতায় জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলায় ত্রাণকাজের ব্যবস্থা গ্রহণ, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, গ্রন্থমেলাসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসসমূহ উদযাপন করা এবং অন্যান্য সামাজিক কার্যাদি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের উদ্যোগ গ্রহণ ও সম্পাদন করা।
ঙ. সমিতির স্বার্থের পাশাপাশি দেশ ও জাতীর স্বার্থে প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের উদ্যোগ গ্রহণ করা।
চ. সংগঠনের কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য সাংগঠনিক সম্পাদক কাউন্সিল সভায় পরিকল্পনা পেশ করবেন; যা কাউন্সিল কর্তৃক অনুমোদন করাতে হবে। অনুমোদিত হলে উপযুক্ত তহবিল ও জনবল প্রদান করা হবে।

১৬.৭ গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক
গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক-এর দায়িত্ব এবং কর্তব্যসমূহ-
ক. সকল ধরনের বিজ্ঞাপন এবং প্রেস রিলিজ তৈরি করে সংবাদপত্রে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সমিতির সকল প্রকার প্রকাশনা ছাপানো এবং যথাযথভাবে প্রচারের ব্যবস্থা করা। সমিতির কার্যক্রম বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার ও প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
খ. সদস্যবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহের জন্য ইস্যুকৃত সকল প্রকার চিঠিপত্র, প্রতিবেদন ইত্যাদি পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা।
গ. সংগঠনের উপরোক্ত কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য কোন প্রকাশনা/উপাত্ত/Estern Librarian/স্মরণিকা ইত্যাদি প্রকাশের ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করে উক্ত পরিকল্পনা কাউন্সিলে অনুমোদন করিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে এবং এজন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও লোকবল সংগঠন নিশ্চিত করা।

১৬.৮ মহিলা বিষয়ক সম্পাদক
মহিলা বিষয়ক সম্পাদক-এর দায়িত্ব এবং কর্তব্য: সমিতির সকল মহিলা সদস্যদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নজর রাখা এবং এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। মহিলা সদস্যদের আহবানে বিভিন্ন অফিস আদালতে বক্তব্য রাখা ও অবস্থার প্রেক্ষিতে তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং পেশাজীবীদের উন্নয়নে সহায়তা করা।

১৬.৯ কাউন্সিলর/উপদেষ্টাবৃন্দ
ক. সভাসমূহে নিয়মিত অংশগ্রহণ এবং গঠনমূলক প্রস্তাব ও সুপারিশের মাধ্যমে সমিতির কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করা।
খ. কাউন্সিল সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের উপ-কমিটির সদস্য/ সদস্যসচিব বা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা।
গ. বিভাগীয় কাউন্সিলের বিভিন্ন বিভাগ বা জেলায় সমিতির অনুমোদনক্রমে প্রতিষ্ঠিত ইনস্টিটিউটে কেন্দ্রীয় সমিতির মূল প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। কাউন্সিলের অনুমোদন ব্যতিরেকে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ ইত্যাদি কার্যক্রম কেন্দ্রের নিকট অবৈধ বলে বিবেচিত হবে।

১৭. সাধারণ পরিষদ এবং কাউন্সিলের সভাসমূহ

ক. [* ] কাউন্সিল সভা: অন্ততঃপক্ষে প্রতি দুই মাসে কাউন্সিলের একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে।
খ. সভাপতির সাথে আলোচনাক্রমে মহাসচিব কাউন্সিল এবং সাধারণ পরিষদের সভাসমূহ আয়োজন করবে। কোন ক্ষেত্রে সভাপতির নির্দেশ অনুযায়ী যদি মহাসচিব সভা আয়োজনে ব্যর্থ হন, সেক্ষেত্রে সভাপতি স্বয়ং সকল সদস্যকে নোটিশ দিয়ে সভা অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন।
গ. অন্ততঃ এক চতুর্থাংশ সদস্যদের উপস্থিতিতে সাধারণ ও কাউন্সিল সভার কোরাম পূর্ণ হয়েছে বলে ধরে নেয়া হবে।
ঘ. সভাপতির অনুপস্থিতিতে যেকোন একজন সহ-সভাপতি সিনিয়রটির ভিত্তিতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
ঙ. যদি সভাপতি ও সকল সহ-সভাপতি সভায় অনুপস্থিত থাকেন, তবে সবচেয়ে সিনিয়র কাউন্সিলর সভায় সভাপতিত্ব করবেন।
চ. কোন কাউন্সিলর পরপর ৩টি সভায় অনুপস্থিত থাকলে তার সদস্যপদ বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে সদস্যপদ বাতিলের পূর্বে কেন তাঁর সদস্যপদ বাতিল করা হবে না এই মর্মে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে একটি কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে।
ছ. [** কাউন্সিল সভা আহবানের জন্য ০৫ দিন, কাউন্সিলের জরুরী সভা আহবানের জন্য ২৪ ঘন্টা ও সাধারণ সভা/বিশেষ সাধারণ সভা আহবানের জন্য ২১ দিন পূর্বে নোটিশ দিতে হবে। বিশেষ জরুরী সভা ফোনে আহবান করা যাবে। যেকোন সভার নোটিশ ই-মেইল বা মোবাইল ম্যাসেজের মাধ্যমে দেওয়া যাবে।
১৭.১ সাধারণ সভা: নির্বাচনত্তোর নবনির্বাচিত কাউন্সিল পরবর্তী বছরে সাধারণ সভা অনুষ্ঠান করবে। যদি কোন কারণবশত: সম্ভব না হয় তাহলে উক্ত কাউন্সিলের মেয়াদকালে অন্তত একবার সাধারণ সভা করবে।

১৮. [* ] কাউন্সিলের নির্বাচন

ক.
সভাপতি- ১জন,
সহ-সভাপতি- ৩জন,
মহাসচিব- ১জন,
কোষাধ্যক্ষ- ১জন,
যুগ্ম-মহাসচিব- ১জন,
সাংগঠনিক সম্পাদক- ১ জন,
গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক- ১জন,
মহিলা বিষয়ক সম্পাদক – ১জন,
কাউন্সিলর কেন্দ্রীয়- ৫জন,
কাউন্সিলর বিভাগীয়- ৭জন
সমিতির আজীবন সদস্যবৃন্দের মধ্য থেকে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচন করা হবে।  সভাপতি, মহাসচিব ও  কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচন করতে হলে উক্ত সদস্যকে ঢাকা মহানগরীর আওতাধীন এলাকায় (সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনী এলাকা) বসবাস করতে হবে। এ শর্তে বিগত ২ বছর ঐ ঠিকানায় বসবাস করেছে এই মর্মে নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। তা ছাড়া সভাপতি, মহাসচিব ও কোষাধ্যক্ষ পদে কোন স্বীকৃত বিশ্বদ্যিালয় হতে গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয়ে ন্যূনতম এম. এ ডিগ্রি ব্যতীত কেউ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করতে পারবেন না। কাউন্সিলর (বিভাগীয়) পদ বর্তমানে ৭টি তবে ভবিষ্যতে কোন বিভাগ সৃস্টি হলে ঐ বিভাগের জন্য কাউন্সিলর (বিভাগীয়) একটি পদ সৃষ্টি হবে।
খ. সাধারণ পরিষদের সকল সদস্যই ভোট প্রদান করতে পারবেন। তবে কারও যদি বার্ষিক চাঁদা বাকী থাকে, তবে সেটা নির্ধারিত তারিখের মধ্যে পরিশোধ করে নির্বাচনে ভোট প্রদান করার সুযোগ গ্রহণ করতে পারবেন।
গ. [* ] আজীবন সদস্য ও ভোটাধিকার প্রাপ্ত সাধারণ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে ল্যাব  কাউন্সিল গঠিত হবে। কাউন্সিল হবে জানুয়ারি- ডিসেম্বর মোট ৩ বছর মেয়াদি। কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার জন্য একজন প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগ করতে হবে। তিনি কেন্দ্র ও বিভাগীয় পর্যায়ের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের জন্য তাঁর অধীনে প্রতি বিভাগে একজন করে নির্বাচন কর্মকর্তা ও প্রয়োজনীয সংখ্যক জনবল নিয়োগ করে একই দিনে সদ্যসদের সরাসরি ভোটে কেন্দ্র ও বিভাগীয় পর্যায়ে নির্বাচন সম্পন্ন করবেন।

ঢাকায় অথবা বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে প্রয়োজনে ন্যুনতম ৩০০ (তিনশত) ভোটার আছে এমন জেলা শহরে একই দিনে সদস্যদের সরাসরি ভোটে এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার স্বাক্ষরে নির্বাচন সিডিউল ও আচরণ বিধি তৈরী করে তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সর্বত্র প্রচার করতে হবে। নির্বাচন কমিশনে ল্যাবের কোন সদস্য থাকতে পারবেন না।

যে কোন বিশেষ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে যদি নির্বাচিত কাউন্সিল যথা সময়ে নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হন তবে অনুর্ধ্ব ১ মাসের মধ্যে সাধারণ সভা আহবান  করে সাধারণ সভার অনুমোদনক্রমে কাউন্সিল সভার মেয়াদ বাড়িয়ে ঐ সময়ের মধ্যে নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যদি এ ব্যবস্থা না নিয়ে নির্বাচিত কাউন্সিল অযথা সময় নষ্ট করে তবে সাধারণ সদস্যদের এক পঞ্চমাংশ সদস্যদের উপস্থিতিতে তলবি সাধারণ সভায় নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। ল্যাব কাউন্সিল কর্তৃক অনুমোদিত প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার অধীনে  নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।

ঘ. কাউন্সিলের অফিসের টার্মের সময়সীমা হবে ৩বছর। অফিসিয়াল বছরের ৩য় বছরটি ৩১শে ডিসেম্বর শেষ হবে। যদি বর্তমান কাউন্সিল পরবর্তী কাউন্সিল নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয় সেক্ষেত্রে হেডকোয়ার্টারে বসবাসকারী সদস্যরা কাউন্সিলের মহাসচিবের আহবানে একত্রিত হয়ে পরবর্তী কাউন্সিল নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এবং সমিতির বিভিন্ন কার্যাদি পরিচালনা করবেন।
ঙ. [* ] তিন বছর ধরে যাঁরা সমিতির অজীবন সদস্য রয়েছেন তাঁরাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
চ. [* ] বিভাগীয় কাউন্সিলরগণ সংশ্লিষ্ট বিভাগের সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন। অন্য বিভাগের সদস্যদের ভোট তাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
ছ. সমিতি কর্তৃক প্রত্যাহৃত বা সদস্য পদ বাতিলকৃত কোন সদস্য নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারবে না।
জ. কোন ব্যক্তি নির্বাচনে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন যদি তিনি আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত, দোষী সাব্যস্ত হন, অপ্রকৃতিস্থ হন, সংগঠন, গঠনতন্ত্র ও পেশার পরিপন্থী কোন কাজ করেন অথবা নৈতিকস্খলনজনিত কারণে দোষী সাব্যস্ত হন।

১৯. আর্থিক এবং অন্যান্য লেনদেন

ক. সমিতির আয়  এবং এর সকল সম্পদ সম্পূর্ণরূপে সমিতির উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের কাজে লাগবে এবং ফলে এর কোন অংশই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ডিভিডেন্ড রূপে লাভ বা বোনাস ইত্যাদি খাতে কোন সদস্যের জন্য ব্যবহার করা যাবে না।
খ. সমিতির যে কোন কাজের ক্ষেত্রে যে কোন সদস্য বা ব্যক্তি বা সমিতির যে কোন একজন কর্মচারীকে ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা দেয়া হবে।
গ. কাউন্সিল বা সাধারণ পরিষদের কোন সদস্যকেই সমিতির বেতন ভিত্তিক কর্মকর্তা/ কর্মচারী হিসেবে অফিসে নিয়োগ করা যাবে না। কোন সদস্যকে কোন প্রকার সম্মানী বা মাসোহারা দেয়া হবে না। তবে কোর্স পরিচালনা বা প্রশিক্ষণ, “হিসাব রক্ষণ/অডিট কার্য তদারকির” ক্ষেত্রে নির্ধারিত কাজের জন্য সম্মানীভাতা প্রদান করা যাবে।
ঘ. ঢাকায় অবস্থিত কোন একটি নির্ধারিত ব্যাংকে ‘‘জেনারেল ফান্ড, লাইব্রেরি এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ” নামে মুনাফা ভিত্তিতে একাউন্টে সমিতির ফান্ড, ট্রেনিং কোর্স ফান্ড, ইত্যাদিও একই একাউন্টে জমা রাখা হবে। সভাপতি, মহাসচিব এবং কোষাধ্যক্ষ একত্রিতভাবে সাধারণ ফান্ডের পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন এবং বিশেষ ক্ষেত্রে মহাসচিবসহ যে কোন দুজনের যৌথ স্বাক্ষরে হিসাব পরিচালিত হবে। কাউন্সিল অন্যান্য ফান্ডের পরিচালক নির্বাচন করবে।

২০. ফান্ডের উৎস

ক. [** ] সমিতির সদস্য হওয়ার জন্য গৃহীত চাঁদা।
খ. সমিতির উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য অর্জনের জন্যে সকল ধরনের সম্পদ গ্রহণ এবং খরচ সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন এ্যাক্ট- এর আওতায় পরিচালিত হবে।
গ. সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন এ্যাক্ট- এর আওতায় দেশ এবং বিদেশ থেকে সাহায্য গ্রহণ করা হবে।
ঘ. যোগ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ হতে বাই-লেটারেল এগ্রিমেন্টের ভিত্তিতে সমিতি অনুদানসহ ঋণ গ্রহণ করতে পারবে।
ঙ. যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে লটারির মাধ্যমে সমিতির অর্থের সংস্থান করা যেতে পারে।
চ. [** ] সাধারণ সভা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণের জন্য গৃহীত রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য ফি এবং সভাপতির অনুমতিক্রমে অনুদান গ্রহণ করা যাবে।

২১. গঠনতন্ত্র সংশোধন

ক. গঠনতন্ত্র সংশোধন বা সংস্করণের জন্য কাউন্সিলের মাধ্যমে সাধারণ সভায় উপস্থাপনের পর ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটে গঠনতন্ত্র পরিবর্তন/ সংশোধন করা যাবে। এক্ষেত্রে গঠনতন্ত্রের পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংশোধন ও বিয়োজন প্রয়োজন হলে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কমপক্ষে ৩০ দিন পূর্বে মহাসচিবের নিকট সংশোধনী প্রস্তাব পাঠাতে হবে। সংশোধনী প্রস্তাব যাচাই বাছাই করার জন্য মহাসচিব কাউন্সিলে পেশ করবেন। কাউন্সিলের অনুমোদন সাপেক্ষে সংশোধনীগুলো বার্ষিক সাধারণ সভায় উত্থাপিত হবে। তবে শর্ত থাকে যে, যেসব সংশোধনী কাউন্সিল কর্তৃক অনুমোদিত হবে না সেসব সংশোধনীর উপর প্রস্তাবকারী সদস্যকে ২ মিনিট করে বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দেয়া হবে। অত:পর উক্ত সংশোধনীটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাহার হয়েছে মর্মে পরিগণিত হবে
খ. ২১.ক উপধারা মত গঠনতন্ত্র সংশোধন করা।

২২. পেশাগত মূল্যবোধ এবং নিয়ম-নীতিমূলক কার্যাদি

ক. সমিতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে সমিতির সকল সদস্য বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। কোন সদস্যের বিরুদ্ধে কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে অথবা কোন সদস্য সমিতির স্বার্থের পরিপন্থী কোন কাজে জড়িয়ে পড়লে আর তা যদি  তদন্তের ভিত্তিতে প্রমাণিত হয়, তবে কাউন্সিল সভায় পেশ করতে হবে এবং ল্যাব কাউন্সিল-এর সিদ্ধান্তক্রমে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ঐ সদস্যের নিকট থেকে লিখিত রিপোর্ট ও মৌখিক সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হবে । সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলে তাকে সমিতি থেকে বহিষ্কার করা যেতে পারে। তবে চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্বে অভিযুক্ত সদস্যের সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা যেতে পারে।
খ. সাধারণ পরিষদের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত রেয়াত ও প্রয়োগের সকল ক্ষমতা সাধারণ পরিষদ সংরক্ষণ করে।

২৩. পদত্যাগ

কোন সদস্য যদি পদত্যাগ করতে চায় তবে তাকে মহাসচিবের বরাবরে লিখিত আকারে আবেদন করতে হবে। মহাসচিবের নিজের ক্ষেত্রে সভাপতির নিকট লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র পেশ করতে হবে। পদত্যাগপত্র যদি গৃহীত/অনুমোদিত হয় তবে অনুমোদনের দিন হতে সেটা কার্যকর হবে অথবা কাউন্সিল কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ অনুমোদিত হবে। যদি সভাপতি নিজে পদত্যাগপত্র পেশ করেন, তবে মহাসচিব কাউন্সিল সদস্যদের মাঝে তা বিতরণ করবেন এবং পরবর্তী কাউন্সিল এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

২৪. বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি উপবিধি/নীতিমালা

ক. সমিতি বিভাগীয়/জেলা সমিতি পরিচালনার উদ্দেশ্য একটি সাংগঠনিক নীতিমালা প্রণয়ন করবে তবে প্রণীত নীতিমালা মূল গঠনতন্ত্রের সাথে কোন ক্রমেই সাংঘর্ষিক হবে না।
খ. বাংলাদেশে গ্রন্থাগার বিজ্ঞান শিক্ষা ও পেশার পথিকৃৎ মোহাম্মদ সিদ্দিক খান (এম.এস.খান) এর জন্মদিবস ২১ মার্চ ১৯১০, এই ২১ মার্চকে বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি প্রতিবছর গ্রন্থাগার দিবস হিসেবে পালন করবে এবং এম.এস. খানের স্মৃতি সংরক্ষণে গঠিত ল্যাব – এম.এস.খান ফাউন্ডেশন নীতিমালা দ্বারা পরিচালিত হবে।


বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি উপবিধি
By Laws of LAB

বিভাগীয়/জেলা সমিতির পরিচালনা বিধি/নীতিমালা

ভূমিকাঃ বাংলাদেশ গ্রন্থাগার Library Association of Bangladesh (LAB) এর গঠনতন্ত্রের ২৪ (খ) অনুযায়ী ল্যাব এর আওতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগ/জেলা পর্যায়ে সংগঠন/সমিতি পরিচালনার জন্য এই সাধারণ বিধি/নীতিমালা জারী করা হলো।

১. নাম                     : বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি, ……………………………….. (সংশ্লিষ্ট বিভাগ/জেলার নাম)।
২. কার্যালয়               : ………………………………………………………………
৩. অফিস কার্যক্রম     : বর্ষপঞ্জী অনুসারে গণনা হবে।
৪. লক্ষ্য/উদ্দেশ্য        :

ক) বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতির (খঅই) গঠনতন্ত্রে বর্ণিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যেসমূহের অনুরূপ।
খ) থানা, ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে সমিতির ইউনিট সংগঠনের উদ্যোগে গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষার আলো জনসাধারণের নিকট সহজলভ্য করা।
গ) মাঠ পর্যায়ে ল্যাব এর কার্যক্রম বাস্তবায়ন।

৫. সমিতির সদস্য পদ: স্থানীয় সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে এবং সমিতির গঠনতন্ত্র মেনে চলার শর্তে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে নিম্নবর্ণিত ধরনের সদস্য হওয়া যাবে:

ক) পৃষ্ঠপোষক সদস্যঃ সংশ্লিষ্ট বিভাগ/জেলার যে কোন দানশীল ব্যক্তি সমিতির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে জমি, দালান কোঠা, আসবাবপত্র, বই অনুদান প্রভৃতি বিষয়ে সহযোগিতা প্রদান করলে তিনি পৃষ্ঠপোষক সদস্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। তবে তাঁর ভোটাধিকার থাকবে না।
খ) প্রাতিষ্ঠানিক সদস্যঃ কোন লাইব্রেরি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমিতির গঠনতন্ত্র মেনে চলার শর্তে কার্যনির্বাহী পরিষদের অনুমোদন এবং অনুদান/চাঁদা প্রদান সাপেক্ষে প্রাতিষ্ঠানিক সদস্য হতে পারবেন।
গ) [* ] সাধারণ সদস্যঃ সংশ্লিষ্ট বিভাগ/জেলার অধিবাসী অথবা অন্য জেলার অধিবাসী  সংশ্লিষ্ট জেলায় কর্মরত হলে এবং তিনি যদি কোন সরকার স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞানে ডিপ্লোমা, স্নাতক (সম্মান), এম.এ বা পি.এইচ.ডি ডিগ্রিধারী এবং গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয়সহ স্নাতক (পাস) কোর্স ডিগ্রিধারী হন তবে তিনি ৩০০.০০ (তিনশত) টাকা চাঁদা পরিশোধ করে স্থানীয় কাউন্সিলের অনুমোদনক্রমে সমিতির এবং সাধারণ পরিষদের সদস্য হতে পারবেন।  গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞানে সার্টিফিকেট কোর্স পাস যাঁরা ইতিমধ্যে তিন বৎসর লাইব্রেরিতে চাকরি করেছেন তাঁরাও সাধারণ সদস্য হতে পারবেন। তবে সাধারণ সদস্যগণ শুধু ভোটাধিকারের  সুযোগ পাবেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করতে পারবেন না।
ঘ) [* ] আজীবন সদস্যঃ সংশ্লিষ্ট বিভাগ/জেলার যে কোন নাগরিক তিনি যদি কোন সরকার স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞানে ডিপ্লোমা, স্নাতক (সম্মান), এম.এ বা পি.এইচ.ডি ডিগ্রিধারী এবং গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয়সহ স্নাতক (পাস) কোর্স ডিগ্রিধারী হন তবে তিনি ৫০০.০০ (পাঁচশত) টাকা চাঁদা পরিশোধ করে স্থানীয় কাউন্সিলের অনুমোদনক্রমে সমিতির আজীবন সদস্য হতে পারবেন।  গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞানে সার্টিফিকেট কোর্স পাস যাঁরা ইতিমধ্যে তিন বৎসর লাইব্রেরিতে চাকরি করেছেন তাঁরাও আজীবন সদস্য হতে পারবেন।
ঙ) [** ] বিভাগীয় বা জেলা সমিতির সদস্য হতে হলে তাঁকে একই সাথে কেন্দ্রীয় সমিতির সদস্য হওয়া বাঞ্ছনীয়।

৬. সমিতির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি সাধারণ পরিষদ এবং একটি কার্যনির্বাহী পরিষদ   থাকবে।
৭. সাধারণ পরিষদঃ সমিতির আজীবন সদস্য ও সাধারণ সদস্যদের নিয়ে সাধারণ পরিষদ গঠিত হবে।
৮. সাধারণ পরিষদের দায়িত্ব ও কর্তব্যঃ

ক) সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করা।
খ) সমিতির কার্যক্রমের উপর সাধারণ নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ভূত কোন পরিস্থিতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
গ) যে কোন জরুরী পরিস্থিতির কারণে সুনির্দিষ্ট আলোচ্যসূচির ভিত্তিতে সাধারণ সভা আহবান, কার্যনির্বাহীপরিষদ বাতিল, পরবর্তী নির্বাচন পরিচালনা করা এবং সাময়িকভাবে সমিতির কর্মকান্ড পরিচালনা করা।

৯. [* ] কার্যনির্বাহী পরিষদঃ স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয়ে পিএইচডি, এম. এ বা স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী এবং সমিতির আজীবন সদস্য এমন ব্যক্তিদের মধ্য হতে সদস্যদের ভোটে নির্বাচনের মাধ্যমে নিম্নরূপ একটি কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠিত হবে। তবে গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয়ে ন্যূনতম এম. এ  ডিগ্রি ব্যতীত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কেউ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করতে পারবেন না।

ক) সভাপতি                                                          ১ জন
(বিভাগীয় কাউন্সিলর পদাধিকারবলে বিভাগীয় সমিতির সভাপতি থাকবেন, জেলা সমিতির ক্ষেত্রে সভাপতিসহ অন্যান্য পদে নির্বাচন হবে।)
খ) সহ সভাপতি                                                     ২ জন
গ) সাধারণ সম্পাদক                                               ১ জন
ঘ) কেষাধ্যক্ষ                                                          ১ জন
ঙ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক                                         ১ জন
চ) সাংগঠনিক সম্পাদক                                           ১ জন
ছ) প্রচার ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক                               ১ জন
জ) মহিলা বিষয়ক সম্পাদক                                     ১ জন
ঝ) কার্যনির্বাহী সদস্য                                              ৬জন
ঞ) বিভাগীয় সমিতির ক্ষেত্রে অধিভুক্ত জেলা সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক (পদাধিকারবলে) সদস্য হবেন।
চ) জেলা সমিতির ক্ষেত্রে অধিভুক্ত উপজেলা সমিতির  সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক (পদাধিকারবলে) সদস্য হবেন।

১০. কার্যনির্বাহী পরিষদের ক্ষমতা ও দায়িত্বঃ সমিতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সমুন্নত রেখে কার্যনির্বাহী পরিষদ নিম্মে বর্ণিত ক্ষমতা ও দায়িত্বসমূহ পালন করবে:

ক) নির্বাচনোত্তর কার্যনির্বাহী পরিষদ ল্যাব কাউন্সিলের স্বীকৃতি গ্রহণ করে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাতীয় সংগঠন ও স্থানীয় সংগঠনের কর্মসূচি বাস্তাবায়নের শপথ গ্রহণ করা।
খ) সমিতির যাবতীয় কার্যাবলী পরিচালনার সার্বিক দায়িত্ব পালন করা।
গ) সাধারণ পরিষদের গৃহীত সিদ্ধান্তবলী বাস্তবায়ন করা।
ঘ) সমিতির তহবিল সংগ্রহ ও পরিচালনার দায়িত্ব পালন করা এবং বার্ষিক হিসাব বিবরণী নিরীক্ষণ করে নিরীক্ষা প্রতিবেদন সদস্যদের মাঝে বিতরণ করা।
ঙ) সাধারণ পরিষদের বার্ষিক সম্মেলন ও বিশেষ সম্মেলন এবং কার্যনির্বাহী পরিষদের সভা আহবান করা।
চ) কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব বন্টন করা।
ছ) সময়মতো কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা এবং শূন্যপদের দায়িত্ব অর্পণ করা।
জ) বিশেষ উদেশ্যে প্রয়োজনবোধে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য কমিটি, উপ-কমিটি করা।
ঝ) থানা, ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে গ্রন্থাগার সমিতি গঠনে উৎসাহ এবং নির্দেশনা প্রদান এবং অনুমোদনের মাধ্যমে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদান করা।
ঞ) কোন শাখা সমিতির কার্যক্রম বিতর্কিত বা সমিতির গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী হলে অনুমোদন বাতিল করা।
ট) গ্রন্থাগারিকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনা করা।
ঠ) ল্যাব কাউন্সিলের অনুমোদনক্রমে গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয়ে সার্টিফিকেট/ স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা ডিগ্রি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা।
ড) সমিতির নিয়ন্ত্রণে একটি আধুনিক গ্রন্থাগার ইন্সটিটিউট গড়ে তোলার মাধ্যমে গ্রন্থাগারিকদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সেই সাথে ছাত্র শিক্ষক ও অফিসারদের গ্রন্থাগার সেবার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের অধিকতর সুবিধা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া।
ঢ) সমিতির কার্যক্রম, সমিতির অফিস, লাইব্রেরি ও সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা।
ণ) সমিতির বেতনভুক্ত কর্মচারীদের নিয়োগ ও অপসারণ করা।
ত) কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠনের উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশন নিয়োগ করা।
থ) প্রতি বছর সমিতির নিরীক্ষিত হিসাব প্রতিবেদনসহ বার্ষিক কার্যবিবরণী বিভাগীয় কাউন্সিলরের মাধ্যমে ল্যাব মহাসচিব বরাবরে প্রেরণ করা।

১১. ল্যাবের বিভাগীয় কাউন্সিলরের ভূমিকা:

ক) [* ] বিভাগীয় কাউন্সিলর ল্যাবের প্রতিনিধি হিসাবে পদাধিকারবলে বিভাগীয় সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। বিভাগীয় সমিতির সভাপতি পদে কোন নির্বাচন প্রয়োজন নেই। জেলা সমিতির ক্ষেত্রে সভাপতিসহ অন্যান্য পদে নির্বাচন হবে।
খ) বিভাগীয়/জেলা সমিতির কোনো কার্যক্রম খঅই এর গঠনতন্ত্র পরিপন্থী প্রতীয়মান হলে কেন্দ্রীয় খঅই কাউন্সিলকে অবহিত করবেন।
গ) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন না হলে উপদেষ্টা হিসেবে তিনি কেন্দ্রকে অবহিত করবেন।
ঘ) [*** ] বিলুপ্ত

১২. সভা:

ক) অন্তত পক্ষে প্রতি ৩ (তিন) মাসে কার্যনির্বাহী পরিষদের একটি সভা এবং বছরে ৪টি সভা করতে হবে।
খ) সম্ভব হলে প্রতি বছর অথবা কমপক্ষে প্রতি ৩ বছরের একবার সাধারণ পরিষদের সভা করতে হবে।
গ) সভাপতির সাথে আলোচনা করে সাধারণ সম্পাদক কার্যনির্বাহী পরিষদ এবং সাধারণ পরিষদের সভাসমূহ আহবান করবেন। কোন ক্ষেত্রে সভাপতির নির্দেশ অনুযায়ী সাধারণ সস্পাদক সভা আয়োজন করতে ব্যর্থ হলে সভাপতি স্বয়ং সভা আহবান করতে পারবেন। কার্যনির্বাহী পরিষদ ও সাধারণ পরিষদ উভয় সভাতেই বিভাগীয় কাউন্সিলরকে উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে হবে। সভার বিজ্ঞপ্তি জারির ক্ষেত্রে নিম্নরূপ সময়সূচি অনুসরণ করতে হবে:

      • সাধারণ পরিষদের সভা –     ৩০ (ত্রিশ) দিন
      • কার্যনির্বাহী পরিষদের সভা – ৩ (তিন) দিন
      • জরুরী সভা –                     ১ (এক) দিন

ঘ) সভার কোরাম: সাধারণ পরিষদের সভায় এক তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতি সভার কোরাম হবে এবং কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় ৫ (পাঁচ) জন সদস্য উপস্থিত হলে কোরাম হবে। তবে কমিটি বাতিল বা গঠনতন্ত্র সংশোধনের ক্ষেত্রে উপস্থিত সদস্যদের দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোট প্রয়োজন হবে।

১৩. কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন:

ক) কার্যনির্বাহী পরিষদের সকল পদ সাধারণ ও আজীবন সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবে।
খ) [* ] সমিতির আজীবন সদস্য হিসাবে তিন বছর উত্তীর্ণ না হলে কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচনে কোন পদে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
গ) সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচন করতে হলে উক্ত সদস্যকে বিভাগীয় শহরের (সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনী এলাকা) বসবাসকারী হতে হবে এবং নির্বাচনের প্রার্থী হওয়ার পূর্বে অন্যূন দুবছর ঐ ঠিকানায় বসবাস করেছে এই মর্মে নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।
ঘ) সকল সদস্যের নির্বাচনে ভোটারাধিকার থাকবে তবে নির্বাচন কার্যক্রম ঘোষণার পূর্বে তাদের বার্ষিক চাঁদা পরিশোধ করতে হবে।
ঙ) কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সমিতির সদস্য নয় এমন এক জন নিরেপেক্ষ ব্যক্তিকে নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করবে। নির্বাচনের গোপনীয়তা রক্ষা করে কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন কর্মকর্তাকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। নির্বাচন কর্মকর্তা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে অথবা গোপন ডাক ব্যালট পেপারের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করবেন। কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন কর্মকর্তার সাথে সম্মিলিতভাবে নির্বাচন কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
চ) কার্যনির্বাহী পরিষদের মেয়াদ ৩ বছর হবে এবং তৃতীয় বছরের ৩১ ডিসেম্বর কার্যনির্বাহী পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে। তবে বিশেষ কোন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে এবং পরবর্তী কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যর্থ হলে বিভাগীয় কাউন্সিলরের প্রস্তাব অনুযায়ী ল্যাব কাউন্সিলের অনুমোদনক্রমে কার্যনির্বাহী পরিষদের মেয়াদ অনধিক এক বছর বর্ধিত করা যাবে এবং এই কমিটির কার্যকাল নির্ধারিত সময়ান্তে অথবা বর্ধিত সময়ান্তে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। ঐ মুহূর্তে বিভাগীয় কাউন্সিলর কেন্দ্রের সাথে আলোচনা করে ৩ মাস মেয়াদের একটা আহবায়ক কমিটি গঠন করে পরবর্তী কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন পরিচালনা এবং অন্তবর্তীকালীন সমিতির কার্যকলাপ চালিয়ে যাবেন।
ছ) পদত্যাগঃ সমিতির সাধারণ সম্পাদকের নিকট কোন সদস্য পদত্যাগের লিখিত আবেদন করতে পারবে এবং সাধারণ সম্পাদকের ক্ষেত্রে সমিতির সভাপতির নিকট আবেদন করতে হবে। নির্বাহী পরিষদের সভায় পদত্যাগ পত্র অনুমোদিত হলে দরখাস্ত গ্রহণের তারিখ থেকে তা কার্যকর হবে অথবা নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত তারিখ বলবৎ হবে। কেউ মারা গেলে বা পদত্যাগ করলে কিংবা বিশেষ পরিস্থিতিতে পদশূন্য হলে নির্বাহী পরিষদ কোন নির্বাহী সদস্যকে নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণ করতে হবে।

১৪. সমিতির তহবিলঃ সমিতির তহবিল এবং এর সম্পদসমূহ সমিতির উদ্দেশ্য ও আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য ব্যয় করা হবে। এর কোন অংশ লভ্যাংশ বা বোনাস হিসেবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সমিতির সদস্যদের মধ্যে বন্টন করা যাবে না।

১৫. তহবিলের হিসাব সংরক্ষণঃ

ক) কার্যনির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্তক্রমে স্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকে সমিতির চলতি/সঞ্চয়ী হিসাব খুলে সেখানে সমিতির অর্থ সংরক্ষণ করতে হবে। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং কোষাধ্যক্ষ যৌথভাবে তহবিল পরিচালনা করবেন, তবে কোষাধ্যক্ষসহ যে কোন দুই জনের স্বাক্ষরে টাকা তোলা যাবে।
খ) কোষাধ্যক্ষ সমিতির হিসাব সংরক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। ৬ মাস অন্তর তিনি আয়-ব্যয়ের হিসাব বিবরণী কার্যনির্বাহী পরিষদের নিকট উপস্থাপন এবং অডিট ফার্ম দ্বারা বার্ষিক হিসাব নিরীক্ষণ করাবেন।
ঘ) সাধারণ সম্পাদক ১,০০০/= (এক হাজার) টাকা এবং কোষাধ্যক্ষ ৫০০/= (পাঁচশত) টাকার বেশী নগদ হাতে রাখতে পারবেন না।

১৬. প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা কার্যক্রমঃ

ক) জাতীয় সমিতির কাউন্সিলের অনুমোদনক্রমে গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয়ে সার্টিফিকেট কোর্স এবং স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করা যাবে।
খ) শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কার্যনির্বাহী পরিষদ বিভাগীয় কাউন্সিলরের নেতৃত্বে  সর্বোচ্চ ৫জন সদস্য নিয়ে একটি ‘গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান শিক্ষা বোর্ড’ গঠন করবে। শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্টুভাবে পরিচালনার জন্য বোর্ডের সুপারিশক্রমে শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করা হবে। কেন্দ্রীয় সমিতি/জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রণীত সিলেবাস ও অন্যান্য নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।


বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি উপবিধি
By Laws of LAB

ল্যাব – এম এস খান ফাউন্ডেশন নীতিমালা
LAB – M S Khan Foundation Policy

এম এস খান
জন্ম- ২১ মার্চ ১৯১০, মৃত্যু- ১৩ আগস্ট ১৯৭৮

ভুমিকা : বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি Library Association of Bangladesh (LAB) এর গঠনতন্ত্রের ২৪ (খ) ধারা মোতাবেক এম এস খানের স্মৃতি সংরক্ষণে গঠিত ল্যাব – এম এস খান ফাউন্ডেশন পরিচালনার জন্য এই নীতিমালা হিসেবে জারি করা হলো।

১. নাম :  ল্যাব – এম এস খান ফাউন্ডেশন
২. কার্যালয় :  বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতির কার্যালয়ই ফাউন্ডেশনের কার্যালয়
৩. অফিস কার্যক্রম :  জানুয়ারি-ডিসেম্বর বর্ষপঞ্জি অনুসারে
৪. লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য :

ক. মরহুম এম এস খানের পরিবার কর্তৃক প্রদত্ত ১০০০০০/- (এক লক্ষ) টাকা সিড মানি দিয়ে ও পরবর্তীতে বিভিন্ন উৎস থেকে আহরিত  অর্থে গঠিত ফান্ডের টাকায় গ্রন্থাগার ও গ্রন্থাগার আন্দোলনের কার্যক্রমকে সহায়তা করা;
খ. গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান বিষয়ে সেমিনার ও বিজ্ঞ-বক্তৃতার আয়োজন করা;
গ. গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞানের মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা;
ঘ. গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞানে অসামান্য কৃতিত্বের জন্য পুরস্কার প্রদান করা;
ঙ. গ্রন্থাগারিকবৃন্দের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বই/জার্নাল প্রকাশ করা;
চ. গ্রন্থাগার আন্দোলনের পথিকৃৎ মরহুম এম এস খানের কৃতি ও কৃতিত্বের স্মরণার্থে স্মারক বক্তৃতা ও কার্যক্রম গ্রহণ করা।

৫. কার্যনির্বাহী পরিষদ: ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনের নিমিত্তে নিম্নলিখিত কার্যনির্বাহী পরিষদ থাকবে:-

ক. সভাপতি
খ. সাধারণ সম্পাদক
গ. কোষাধ্যক্ষ
ঘ. ল্যাব কাউন্সিল মনোনিত তিনজন প্রতিনিধি সদস্য
ঙ. মরহুম এম এস খানের পরিবারের মনোনিত একজন সদস্য

৬. কার্যনির্বাহী পরিষদের মেয়াদকাল হবে তিন বছর।
৭. কার্যনির্বাহী পরিষদের দায়িত্ব:

ক. ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা;
খ. ফাউন্ডেশনের সিড মানির সঙ্গে আরো অনুদান সংগ্রহ করে তহবিল বৃদ্ধি করা এবং তা পরিচালনা করা;
গ. প্রয়োজন অনুযায়ী সভা করে সকল নীতি নির্ধারণ ও কার্যক্রম পরিচালনা করা;
ঘ. প্রতিবছর শেষে ল্যাব কাউন্সিলকে আয়-ব্যয় হিসাবসহ সকল কার্যক্রমের প্রতিবেদন পেশ করা।

৮. নির্বাচন/মনোনয়ন:

ক. বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি (খঅই) এর সভাপতি পদাধিকার বলে ফাউন্ডেশনের সভাপতি হবেন;
খ. সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ ল্যাব কাউন্সিল কর্তৃক সাধারণ সদস্যদের মধ্য থেকে মনোনিত হবেন;
গ. ল্যাব কাউন্সিল কর্তৃক দেশের বিদ্যোৎসাহী/বিদ্যেৎসমাজের একজন স্বনামধন্য পেশাজীবী গ্রন্থাগারিকদের মধ্য থেকে একজন ও পরিবারের পক্ষ থেকে একজন মোট তিনজন সদস্য মনোনিত হবেন;

৯. হিসাব পরিচালনা: ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষের যৌথ স্বাক্ষরে ব্যাংক একাউন্ট পরিচালিত হবে; তবে যে কোন একজনের অনুপস্থিতিতে সভাপতি এবং তাঁর সাথে সাধারণ সম্পাদক অথবা কোষাধ্যক্ষ যে কোন একজনের যৌথ স্বাক্ষরে ব্যাংক একাউন্ট পরিচালিত হতে পারবে।

১০. অতিরিক্ত দায়িত্ব:  উপরে উল্লেখিত দায়িত্ব ও কর্তব্যের অতিরিক্ত কোন সিদ্ধান্ত বা কার্যক্রম গ্রহণের প্রয়োজন দেখা দিলে কার্যনির্বাহী পরিষদ ল্যাব কাউন্সিলকে অবহিত করে সম্পাদন করতে পারবে।

১১. ল্যাব – এম এস খান ফাউন্ডেশন নীতিমালা সংশোধন: খঅই কাউন্সিল কর্তৃক প্রয়োজনীয় সংযোজন, বিয়োজন, পরিমার্জন ও সংশোধন করা যাবে।


^এটি মূল সংবিধানের অনলাইন কপি মাত্র, বানান ভুল মার্জনীয়।  মুদ্রিত সংখ্যা পেতে ল্যাব অফিসে যোগাযোগ করুন।